Bangla health tips

খেজুর মূলত মরুভূমির ফল। বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে খেজুর প্রধান ফল হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে। আজওয়া খেজুর এটি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় ফলগুলির একটি। তাছাড়া এই জান্নাতি খেজুরের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারীতা। Bangla health tips

আজওয়া খেজুরের ইতিহাসঃ হযরত সালমান ফার্সী (রা:)এর মালিক ছিল একজন ইয়াহুদী। হযরত সালমান ফার্সী যখন মুক্তি চাইল তখন ইয়াহুদী এই মতে তাকে মুক্তি দিতে সম্মতি হইল যে, তিনি যদি কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার দেন এবং ত্রিশটি খেজুর গাছ রোপন করে আর খেজুর গাছে খেজুর ধরলেই তবেই সে মুক্তি পাবে। আসলে ইহুদির সালমান ফার্সীকে মুক্তি দেবার কোন ইচ্ছা ছিল না। কেননা ইয়াহুদী জানত সালমান ফার্সী (রা:) এর পক্ষে ৬০০ দিনার জোগাড় করা কঠিন ছিল। আর ৬০০ দিনার জোগাড় করলেও খেজুর গাছ রোপন করে তাতে ফল ধরা পর্যন্ত অনেক সময়ের ব্যাপার। হযরত সালমান ফার্সী (রা:) রাসুল (সঃ) এর দরবারে এসে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসুল (সঃ) ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন এবং হযরত আলী (রাঃ) কে সাথে নিয়ে ইয়াহুদীর কাছে গেলেন। ইহুদী এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তবে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (সঃ) লক্ষ্য করলেন যে, ইহুদীর দেয়া খেজুরগুলো সে আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলেছে যাতে চারা না উঠে। রাসুল (সঃ) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রাঃ) কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফার্সী (রা:) কে বললেন পানি আনতে। আলী (রাঃ) গর্ত করলে রাসুল (সঃ) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন। আল্লাহর অশেষ কুদরতে সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। রাসুল (সঃ) সালমান ফার্সী (রা:) কে এ দির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। সালমান ফার্সী (রা:) পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ ধারন করেছে। আজওয়া খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। আর কেনইবা দামী হবে না? যে খেজুর গাছ রাসুলের নিজ হাতে রোপন করা। Bangla health tips

নিম্নে আজওয়া খেজুরের উপকারীতা এবং এর পুষ্টিগুন সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

#বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে আজওয়া খেজুরঃ আপনার কাছে আপনার সন্তানটি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার, আপনি সারা দিন বাড়ির বাইরে কাজ কর্ম সেরে বাড়ি ফিরে এসে আপনি আপনার আদরের সন্তানদেরকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাতেই আপনার চরম প্রশান্তি। কিন্তু আপনার যদি সন্তান না থাকে আপনি যদি বন্ধ্যা হন তাহলে আপনার জীবনটা আপনার কাছে অর্থহীন হয়ে উঠবে। আজওয়া খেজুর পুরুষ ও স্ত্রী বন্ধ্যাত্বকে কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। এক কথায়, আজওয়া খেজুর পুরুষ এবং মহিলা বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যাগুলিতে অত্যন্ত ফলপ্রদ যা বিভিন্ন হাদিস এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দ্বারা স্বীকৃত।

আর্টিকেলটি ভিডিও আকারে দেখতে ভিডিও এর প্লে আইকোনে ক্লিক করুন

#পুষ্টিগুনে ভরপুর আজওয়া খেজুরঃ আজওয়া খেজুর প্রাণবন্ত পুষ্টি এবং খনিজ উপাদান দিয়ে পরিপূর্ণ যা আমাদের শরীরের বৃদ্ধি, রোগ নিরাময় এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ কর্ম চালিয়ে যেতে সহায়তা করে থাকে। আজওয়া খেজুরে পটাসিয়াম থাকে যা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং হৃদপিন্ড সুস্থ্য রাখতে সহায়ক। আজওয়া খেজুরে ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে যা আপনার হার্টকে স্থিতিশীল রাখতে এবং আপনার হাড়গুলিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাছাড়া আজওয়া খেজুরে ১৪ প্রকারের ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চ পরিমানে শর্করা, লবণ এবং খনিজ, ৬ প্রকারের ভিটামিন, ২৩ প্রকারের অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অনেকগুলি খাদ্যগুন রয়েছে। আপনি যদি নিয়মিত আজওয়া খেজুর খান তবে আপনি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেন। Bangla health tips

#ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে আজওয়া খেজুরঃ আজওয়া খেজুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উপকারিতা হ’ল এটি আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

#চোখের সমস্যা নিয়ন্ত্রনে আজওয়া খেজুরঃ আধুনিক যুগে আমরা প্রায় সময় পুরো দিনটি বিভিন্ন কাজে কম্পিউটারের সামনে কাটিয়ে থাকি যা আমাদের চোখের উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। নিয়মিত আজওয়া খেজুর খেলে আপনার চোখ সারা জীবন সুস্থ্য থাকবে এবং রাতকানা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

#আজওয়া খেজুর খাদ্য হজম করতে সহায়তা করেঃ অনেক লোক আছে যারা অলসভাবে জীবনযাপনের কারণে তাদের খাদ্য হজমে ব্যাঘাত ঘটে। আমাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক লোকই আছেন যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন। তাই আপনার এমন কিছু দরকার যা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সহায়তা করে। আজওয়া খেজুরের সবচেয়ে স্বাস্থ্য উপকারীতা হল যা হজম প্রক্রিয়াতে সহায়তা করে থাকে।

#পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে আজওয়া খেজুরঃ পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে আজওয়া খেজুরের ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে, এটি সাধারণত স্বীকৃত হয় যে এই জান্নাতি খেজুর খাওয়া পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা আজওয়া খেজুরের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য উপকার।

আশা করি আর্টিকেলটি সকলের ভালো লেগছে। ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

About the author : Mannan570

Leave A Comment