নামায ফারসী শব্দ। এর আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নত হওয়া বা নতী স্বীকার করা। ইসলামী পরিভাষায়, রুকূ-সিজদাসহ শরীয়তের বিধি-বিধান মুতাবিক ইবাদত করাকে নামায বলে। ইসলামের ৫টি স্তম্ভ যথাঃ কালেমা, নামায, রোযা হজ্ব ও যাকাত।  তবে হজ্ব ও যাকাত সবার জন্য ফরজ নয়। যাদের পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ সম্পদ রয়েছে একমাত্র তাদের উপর হজ্ব ও যাকাত ফরজ।  নামায হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইবাদতের শিরোমনি বা শীর্ষ ইবাদতই হচ্ছে নামায। ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। প্রত্যেক সুস্থ্য নর এবং নারীর জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। আল্লাহতায়ালা নামাযের আদেশ করেছেন মানুষের জীবনের সৌন্দর্য বা সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য।

মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মুসলমান নর এবং নারীর প্রতি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরজ করেছেন। এই নামাজ পরকালের মুক্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম। কারণ পরকালে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব গ্রহণ করবেন। যে ব্যক্তি নামাজের হিসাব সুন্দরভাবে দিতে পারবে, তার পরবর্তী হিসাব সহজ হয়ে যাবে।  নামাজ দুনিয়ায় সব ধরনের অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। শুধু তাই নয়, নামাজ মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক পবিত্রতা সাধনের এক অনন্য হাতিয়ার। নামাজ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এ কথা অনেকেই জানি কিন্তু নামাজের কোন সময় কি কি উপকার তা হয়তো অনেকে জানি না। নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। চলুন তাহলে জেনে নেই নামাজ পড়ার স্বাস্থ্য গত উপকারিতা সম্পর্কেঃ

ফজরের নামাজে স্বাস্থ্য উপকারীতাঃ

সারারাত ধরে ঘুমের পর ফজরের সময় নামাজ আদায় করলে নামাজির অবসাদগ্রস্ততা ও অচলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এ সময়ে নামাজিরা হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফলে হালকা অনুশীলন বা ব্যায়াম হয়ে থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ সময়ে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্ক পুনরায় চিন্তা করার জন্য প্রস্তুত হয়।

জোহরের নামাজে স্বাস্থ্য উপকারীতাঃ

মানুষ জীবিকার তাগিদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ঘাটে, অফিস আদালতে বিভিন্ন কাজ কর্ম করে থাকে।  এতে ধুলা, ময়লা ও নানান জীবানু শরীরে আক্রমন করে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  একজন মানুষ যখন জোহরের নামাজ আদায় করার জন্য ওযু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন করল তখন তার শরীর থেকে বিভিন্ন রোগ জীবানু দূর হয় এবং দেহ সতেজ হয়।  যার ফলে দেহ বিভিন্ন রোগ জীবানুর হাত থেকে বেঁচে যায়।

আসরের নামাজে স্বাস্থ্য উপকারীতাঃ

যখন সূর্য ঢলতে থাকে তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন কমতে থাকে। এমনকি আসরের সময় ঘূর্ণন একেবারেই কমে যায়। এ সময় প্রকৃতির মধ্যে স্থবিরতা, অবচেতন অনুভূতির শুরু হয় এবং রাতের অনুভূতি প্রবল হতে থাকে। এ সময় নামাজ আদায় করলে অবচেতন অনুভূতি, মানসিক চাপ, অবসাদগ্রস্ততা ও অস্থিরতা কমে যায়।

মাগরিবের নামাজের স্বাস্থ্য উপকারীতাঃ

মানুষ সারাদিন জীবিকার জন্য বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করে থাকে। ওযু করে মাগরিবের নামাজ আদায়ের ফলে দৈহিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ হয়। ওযু করার ফলে শরীর থেকে যাবতীয় প্রকার ময়লা আবর্জনা দূর হয়ে ত্বক হয় সতেজ ও তরতাজা।

এশার নামাজের স্বাস্থ্য উপকারীতাঃ

বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে হালকা অনুশীলন বা ব্যায়াম করে নিলে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। এশার নামাজ আদায় করলে ব্যায়ামের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এশার নামাজ আদায়ে মনে শান্তি আসে, সহজে খাদ্য হজম হয় এবং মানসিক অস্থিরতা দূর করে।

ইহাছাড়াও নামাজী ব্যক্তি নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আরো অনেক শারীরিক উপকারীতা লাভ করে থাকে। যেমনঃ

#মানুষের একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়ঃ একজন মানুষ যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন তার দু’চোখ সিজদার স্থানে স্থির থাকে। যার ফলে মানুষের মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।

#কোমর ও হাঁটুর ভারসাম্য রক্ষা হয়ঃ নামাজি ব্যক্তি যখন রুকু করে এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন মানুষের কোমর ও হাঁটুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হয়। যার ফলে শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হাটু ও কোমর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

#স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায়ঃ নামাজে সিজদা করার কারণে নামাজি ব্যক্তির মস্তিষ্কে দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়। যার ফলে স্মৃতি শক্তি কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া যখন দুই সিজদার মাঝখানে বসে তখন তার পায়ের উরু ও হাঁটুর সংকোচন এবং প্রসারণ হয়। ফলে মানুষের হাঁটু ও কোমরের ব্যাথা অনেক উপশম হয়।

#নামাজ মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়ামঃ নামাজি ব্যক্তিকে নামাজের সময় দাঁড়ানো, রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে স্থির দাঁড়ানো, আবার সিজদায় যাওয়া, সিজদা থেকে উঠে স্থিরভাবে বসা, আবার সিজদা দিয়ে দাঁড়ানো বা বসা। এ সকল কাজগুলো মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়াম যার দ্বারা মানুষের শারীরিক অনেক উপকার সাধিত হয়। আর এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

#নামাজ বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবানু থেকে সুরক্ষিত রাখেঃ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য পাঁচবার অজু করতে হয়। এতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরিষ্কার থাকে। যার ফলে বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবানু থেকে মানুষ সুরক্ষিত থাকে।

আশা করি আর্টিকেলটি সকলের ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

About the author : Mannan570

Leave A Comment